প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম।
মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই শুভক্ষণে আমি আমাদের জাতির অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কার:
আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের কাজ শুরু করেছে। ৬টি সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ ৩৮টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো খুবই ইতিবাচকভাবে সংস্কারকাজে সাড়া দিয়েছে, তাদের মতামত তুলে ধরছেন। কোন রাজনৈতিক দল কোন কোন সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছে, কোনটিতে দ্বিমত হয়েছে - সেসব তারা জানাচ্ছেন। এটা আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত সুখকর বিষয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দল সংস্কারের পক্ষে মত দিচ্ছেন।
আমাদের লক্ষ্য আগামী নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমি আশাবাদী।
দুর্নীতি দমন:
দুর্নীতি আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় আমরা দুর্নীতিমুক্ত হই, কারণ তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়। দুর্নীতি নির্মূল না করলে ব্যবসা ও বাণিজ্যে অগ্রগতি হবে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার উপর নির্ভর করছে।
নারীর ক্ষমতায়ন:
আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে ভাবতে চাই। এই নতুন চিন্তায় নারীদের অবস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করা, যেখানে নারীরা সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে।
গণহত্যাকারীদের বিচার:
যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। আমরা ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রিয় দেশবাসী, আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি, একসঙ্গে কাজ করে আমরা সব বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবো। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
খোদা হাফেজ।